আর্ন্তজাতিক

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি: বাংলাদেশিসহ ১৫০ জনের মরদেহ উদ্ধার

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাওয়ার পথে, লিবিয়া উপকূলে জাহাজ ডুবে বাংলাদেশিসহ প্রায় দেড় শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে তথ্য পাওয়া যাওয়া গেছে। তবে তাদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।শনিবার (২৭ জুলাই) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়, দুর্ঘটনার দিন মোট ১৩৭টি মরদেহ উদ্ধারের একদিন পর, শুক্রবার (২৬ জুলাই) স্থানীয় সময় ভোরে সাগরে আরও ১৩টি মরদেহ ভেসে ওঠে। পরে সেখানে উপস্থিত লিবিয়া সেনা বাহিনীর সদস্য ও উদ্ধারকর্মীরা স্থানীয় মৎস্যজীবীদের সহযোগিতায় দেহগুলোকে সমুদ্রের পাড়ে তুলে আনে।

এ নিয়ে এখন পর্যন্ত উদ্ধারকৃত মোট মরদেহের সংখ্যা ১৫০টি হলো বলে জানিয়েছেন উদ্ধার তৎপরতা তদারকির কাজে নিয়োজিত জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর কর্তৃপক্ষ। তবে মৃতদের কে কোন দেশের নাগরিক এ বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কোনো তথ্য জানা যায়নি।এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া আব্দাল্লাহ ওসমান নামক এক ব্যক্তির বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বুধবার রাতে লিবিয়া উপকূল হতে যাত্রা শুরুর ৯০ মিনিটের মাথায় তাদের বহনকারী নৌকাটিতে হঠাৎ পানি উঠতে শুরু করে। তার কিছু সময় পরেই নৌকার ইঞ্জিনটি ভেঙে পড়ে।

প্রাণে বেঁচে গেলেও নিজের বীভৎস অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে ওসমান বলেন, ‘আমার চোখের সামনে সবাই বাঁচার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করছিলো। পরবর্তী ছয় ঘন্টার মধ্যে আমার চোখের সামনে একজন একজন করে নারী, পুরুহ ও শিশুরা পানিতে ডুবে যেতে থাকে। ভোরের আলো ফুটতেই স্থানীয় জেলেরা আমাদের উদ্ধারে নামে।’

এদিকে উদ্ধারকৃতদের চিকিৎসা ও আনুষাঙ্গিক সেবা প্রদানের কাজে নিয়োজিত এমএসএফ (মেডেসিনস সানস ফ্রন্টায়ার্স)-এর খায়ের নামের এক স্বেচ্ছাসেবকের বরাত দিয়ে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, পাল্লা দিয়ে চলতে থাকা অভিবাসীদের বহনকারী তিনটি নৌকার একে অন্যের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্বেচ্ছাসেবকরা জানায়, তাদের কাছে ঘটনাটির এমন বর্ণনাই তুলে ধরেছে উদ্ধারকৃতরা।

খায়ের বলেন, অভিবাসীদের মাঝে এরিত্রিয়া, সুদান, ইজিপট ও বাংলাদেশি নাগরিকরা ছিলেন। তবে এদের মাঝে কোন দেশের কয়জন নাগরিক ছিলেন তা এখনও নির্দিষ্ট করে জানা যায়নি।অপরদিকে এ ঘটনায় উদ্ধারকৃতদের মাঝ থেকে ৮৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাজউরা ডিটেনশন সেন্টারে নিয়ে গেছে লিবিয়া কোস্টগার্ডের সদস্যরা।কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্য মত, নৌকাটিতে আনুমানিক ৩৫০ জন যাত্রী ছিলেন। এই নৌকাডুবির ঘটনাট এ বছরের সবচেয়ে মর্মান্তিক নৌকাডুবির ঘটনা বলেও জানায় তারা।

Back to top button
Close