স্কুলের দপ্তরির কানের পর্দা ফাটিয়ে দিলেন এসআই

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে পু'লিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বি'রুদ্ধে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক দপ্তরিকে মা'রধ'র করার অ'ভিযোগ মিলেছে। তিনি ওই দপ্তরির কানের পর্দা ফাটিয়ে দিয়েছেন বলে অ'ভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, জামিরুল নামে ওই এসআই ইয়াবা দিয়েও ফাঁ'সাতে চেয়েছিলেন তাকে। পরে তা মাত্র আড়াই হাজার টাকায় দ'ফারফা করা হয় বলে অ'ভিযোগ মো. উবায়দুল্লাহ নামে ওই দপ্তরির।

সোমবার এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপারের কাছে একটি লিখিত অ'ভিযোগ দিয়েছেন নি'র্যাতনের শি'কার সদর উপজে'লার খাকচাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি উবায়দুল্লাহ।

এর আগে গতকাল রোববার পু'লিশের সদর সার্কেল অফিসে গিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন ও রেজাউল কবিরের কাছে অ'ভিযোগ করেন তিনি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও তার পক্ষে অ'ভিযোগ করেন।

উবায়দুল্লাহ জা'নান, গত শনিবার রাত ১০টার দিকে এসআই জামিরুলের নেতৃত্বে ৬ জনের একটি পুলিশ দল খাকচাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসেন। দপ্তরির কক্ষে গিয়ে বশির নামে কেউ আছে কী না জানতে চান তারা।

এ নামে কেউ নাই বললেও ওই এসআই দপ্তরি উবায়দুল্লাহর পকেটে হাত দিয়ে তল্লা'শী শুরু করেন। কিছু না পেয়ে তারা বাচ্চু নামে কেউ আছে কী না খোঁজ ক'রতে থাকেন। পরে উবায়দুল্লাহকে পুরো স্কুলের শ্রেণিকক্ষের দরজা খুলতে নির্দে'শ দেন। কথামতো দরজা খু'লে দিলেও সেখানে কাউকে না পেয়ে তারা আবারও উবায়দুল্লাহর কক্ষে ফেরত আসেন।

এ সময় তারা আবারও তার পকেট তল্লা'শী করেন। এর মদ্যেই কৌশলে পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে দেয় তারা। এ সময় এসআই জামিরুল তাকে গালা'গাল দিয়ে বলেন, ‘তুই ইয়াবা ব্যবসা করছ, আর কোথায় কোথায় ইয়াবা আছে বল। ’

এছাড়া নারী শিক্ষকদের কক্ষে হিজাব ও কাপড় দেখে এবং শি'শু শ্রেণির কক্ষে চাটাই দেখে তাকে নারী ব্যবসায়ী বলেও গালা'গাল করেন তিনি।

সে সময় জামিরুল আরও বলেন, ‘তুই এখানে মাইয়া নিয়া আড্ডা দেছ, (….) ব্যবসা করছ।’

এসব কথা বলার পর পরই উবায়দুল্লাহর দুই কান ও মাথায় এলোপাতাড়ি মা'রধ'র শুরু করেন এসআই জামিরুল ও তার সঙ্গীয় ফোর্স। তাদের মা'রধ'রের কারণে উবায়দুল্লাহর কানের পর্দা ফেটে যায়। পরে হাতকড়া পরিয়ে বাচ্চুকে বের করে দিতে বলে তার মোবাইল নিয়ে যান। এ সময় উবায়দুল্লাহর স'ঙ্গে থাকা তার ভাতিজাকেও আ'টক করেন এসআই।

এ ঘ'টনার পর উবায়দুল্লাহর কাছে টাকা দা'বি করেন এসআই জামিরুল। টাকার জন্যে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আবু তালেবকে উবায়দুল্লাহর মোবাইল দিয়ে ফোন করেন। পরে তিনি সেখানে গিয়ে প'রিস্থিতি বুঝে উবায়দুল্লাহর বাবা ক্বারী নূরুল ইসলামকে ফোন করে আড়াই হাজার টাকা নিয়ে আসতে বলেন। টাকা নিয়ে তিনি স্কুলে গেলে তার কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেন এসআই।

এ ঘ'টনা কাউকে বললে উবায়দুল্লাকে মা'দকদ্রব্য দিয়ে ফাঁ'সিয়ে দেবেন হু'মকি দিয়ে ওই টাকা নিয়ে চলে যান এসআই জামিরুল।

গতকাল রোববার উবায়দুল্লাকে জে'লা সদর হাসপাতালে ও পরে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায় পরিবার। চিকিৎসক এবিএম মুছা চৌধুরী জা'নান, ওবায়দুল্লাহর কানের আঘা'ত গু'রুতর। প্রচণ্ড আঘা'তে তার কানের পর্দা ফেটে গেছে। উবায়দুল্লাহও জা'নান, তিনি এখন কানে শুনছেন না।

পরে বিষয়টি প্রথমে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উপজে'লা প্রাথমিক শিক্ষা ক'র্মকর্তাকে জা'নান। রোববার রাতে পু'লিশের সদর সার্কেল অফিসে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে অ'ভিযোগ নিয়ে গেলে পুরো ঘ'টনাকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেন এসআই জামিরুল।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন অ'ভিযোগ আমলে নিয়ে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অ'ভিযোগ দিতে প'রামর্শ দেন।

এসআই জামিরুলের বি'রুদ্ধে মা'দক দিয়ে ফাঁ'সিয়ে টাকা হাতানোর অনেক অ'ভিযোগ আছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে।
‘ধ'রো-খাও-ছাড়ো’ এই নীতিতে চলায় তিনি ওই এলাকায় ব্যা'পক স'মালোচিত। জে'লা পু'লিশের পদস্থ এক ক'র্মকর্তার আত্মীয় ও নিজের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জে'লায় হওয়ায় জামিরুল ক্ষ'মতার অপব্যবহার করেন বলে অ'ভিযোগ সদর উপজে'লাবাসীর।