এসপি হারুনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিভিন্ন অ’ভিযোগের মুখে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদকে সরিয়ে আনা হয়েছে বলে দা'বি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, ‘এসপি হারুনকে বিভিন্ন অ’ভিযোগের কারণে সরিয়ে আনা হয়েছে। তার বি'রুদ্ধে ওঠা অ’ভিযোগের শিগগিরই তদন্ত শুরু হবে।’ বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আ'ইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে নারায়ণগঞ্জের সাবেক এসপি হারুনের চাঁ’দাবাজি ও ব্যবসায়ীকে উঠিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এদিকে অ'ভিযোগের মুখে এসপি হারুনকে প্রত্যাহারের কথা বলা হলেও এখনও কাউকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেননি তিনি। নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপারের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি গাড়ি এবং মোবাইলফোনও তিনি ব্যবহার করছেন বলে জে'লা পু'লিশের একাধিক ক'র্মকর্তা নি'শ্চিত করেছেন।

এছাড়া বুধবার (৬ নভেম্বর) নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচলে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স সার্ভিস সপ্তাহের অনুষ্ঠানেও এসপি হারুনকে দেখা গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে জে'লা প্রশাসকের স'ঙ্গে এসপি হারুনও তাকে স্বাগত জা'নান।

উল্লেখ্য, গত ১ নভেম্বর রাতে দেশের শী'র্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ হাশেমের ছেলে শওকত আজিজ রাসেলের স্ত্রী ফারা রাসেল ও ছেলে আনাব আজিজকে বাসা থেকে তুলে আনার অ’ভিযোগ ওঠে এসপি হারুন ও জে'লা গো’য়েন্দা পু'লিশের একটি টিমের বি’রুদ্ধে।

শওকত আজিজ রাসেলকে ফাঁ'সানোর জন্য গাড়িতে বিপুল পরিমাণ মা’দকদ্রব্য ও গু’লি উ’দ্ধার করা হয়েছে বলে নাটক সাজিয়ে দুই নম্বর জে'লা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলন করেন এসপি হারুন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জা'নান, ১ নভেম্বর রাত পৌনে ১টায় নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড চৌরঙ্গী ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে শওকত আজিজ রাসেলের গাড়িতে তল্লা'শি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মা’দকদ্রব্যসহ চালক সুমনকে গ্রে’ফতার করা হয়।

জি’জ্ঞাসাবাদের জন্য আ’টক করা হয় গাড়িতে থাকা শওকত আজিজ রাসেলের স্ত্রী ফারা রাসেল ও ছেলে আনাব আজিজকে। পরে দুপুরের দিকে পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ হাশেম ও বড় ছেলে আজিজ আল কায়সার টিটু এসপি অফিস থেকে ছেলের বউ ও নাতিকে মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে নেন। তবে শওকত আজিজ রাসেল ও ড্রাইভার সুমনকে আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থা'নায় অ’স্ত্র ও মা’দক আ'ইনে দুটি মা’মলা দায়ের করে জে'লা গো’য়েন্দা পুলিশ।

তবে বিপত্তি বাধে শওকত আজিজ রাসেলের বাসার সিসিটিভি ফুটেজ বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে। বিষয়টি খো'লাসা হয় যে চৌরঙ্গী ফিলিং স্টেশন থেকে নয়, শওকত আজিজ রাসেলের বাসা থেকে স্ত্রী ও ছেলেকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। এরই মধ্যে দুই মা’মলায় উচ্চ আদালত থেকে জা'মিন পেয়েছেন শওকত আজিজ রাসেল। তবে ছয় দিনের রি’মান্ডে জি’জ্ঞাসাবাদে আছেন রাসেলের ড্রাইভার সুমন।

জা'মিন পেয়ে শওকত আজিজ রাসেল জা'নান, চার কোটি টাকা চাঁ’দা দা'বি করেছিলেন এসপি হারুন। চাঁ’দা না দেওয়ায় নারায়ণগঞ্জে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ব’ন্ধ করে দেওয়ার হু’মকি দেওয়া হয়। চাঁ’দা না দেওয়ার কারণেই ঢাকা ক্লাবের সামনে থেকে তার গাড়ি গায়েব করে দেয় পুলিশ। তার একদিন পর গায়েব হন তার স্ত্রী ও সন্তান। তাকে ফাঁ’সানোর জন্য গাড়িতে বিপুল পরিমাণ মা’দক ও গু’লি রেখে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। আর তার বি’রুদ্ধে দায়ের করা হয় অ’স্ত্র ও মা’দক আ'ইনে মা’মলা।

সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন