মঈন উদ্দীন খান বাদল অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী ছিলেন: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মঈন উদ্দীন খান বাদল অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী ছিলেন। গণমানুষের স্বার্থে বলিষ্ঠভাবে ভূমিকা রাখতেন। রাজনৈতিক চিন্তা চেতনায় তিনি যথেষ্ট শ'ক্তিশালী ভূমিকা রেখেছেন। বাংলাদেশ ও এলাকার উন্নয়নে নিরলস ভূমিকা রেখেছেন। তার মৃ’ত্যু আজকে আমাদের রাজনৈতিক অ'ঙ্গনে বিরাট শূন্যতার সৃষ্টি করেছে। আমাদের দুর্ভাগ্য তার বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর আম'রা আর শুনতে পারবো না।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আজ একাদশ সংসদের পঞ্চম অধিবেশনে চলতি সংসদের সদস্য মঈন উদ্দীন খান বাদলের শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা প্রয়াত জাসদ নেতা মঈন উদ্দীন খান বাদলের মৃ’ত্যুতে গ'ভীর শোক প্র'কাশ করে বলেন, চলার পথে অনেক আপনজনকে হারিয়েছি, অনেকে হারিয়ে যাচ্ছে। অবশ্য সময়ের স'ঙ্গে সবাইকে একদিন চলে যেতে হবে। কিন্তু মঈন উদ্দীন খান বাদলের মৃ’ত্যু রাজনৈতিক অ'ঙ্গনে বিরাট শুন্যতা সৃষ্টি করেছে।
শেখ হাসিনা আরো বলেন, রাজনীতির অ'ঙ্গনে আম'রা যারা স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন করেছি, আম'রা যারা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছি, এমনকি সেই আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন নিয়ে ছয় দ'ফা আন্দোলন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মা'মলা প্রত্যাহার আন্দোলন- প্রতিটি ক্ষেত্রেই তার (বাদল) সক্রিয় ভূমিকা ছিল।

ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছাত্রলীগের একজন ক'র্মী ছিলেন। স্বাধীনতার পর তিনি জাসদে যোগ দেন। আম'রা যখন জোট গঠন করি তখন আমাদের স'ঙ্গে তিনি সক্রিয় ছিলেন। আন্দোলন, সংগ্রামে, রাজপথে এবং এই সংসদে তার স'ঙ্গে একসাথে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। তিনি বলেন, ছাত্রলীগের একজন ক'র্মী হিসেবে ছাত্র রাজনীতিতে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন। মহান মু'ক্তিযু'দ্ধেও তাঁর বলিষ্ঠ অবদান রয়েছে। তিনি সব সময় অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী ছিলেন এবং শান্তি-সমৃদ্ধিতে বিশ্বাসী ছিলেন। সংসদে তিনি যখন ভাষণ দিতেন প্রত্যেকটা ভাষণই মনে একটা দাগ কেটে যেত। অত্যন্ত বলিষ্ঠ ভাবেই তিনি কথা বলতেন। এলাকার উন্নয়নের জন্য সব সময় তিনি সক্রিয় ছিলেন। তাঁর মৃ’ত্যুতে তাঁর এলাকাবাসীর যেমন ক্ষ'তি হয়েছে, তেমনি রাজনীতিরও।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাত্র দুই দিন আগেই আমি তার খোঁজ নিয়েছি। তিনি অসু'স্থ ছিলেন তার স্ত্রী সবসময় আমাকে মেসেজ পাঠাতেন, খবর জানাতেন। দুদিন আগেও আমি তার কাছ থেকে মেসেজ পাই। আজকে সকালে যখন খবরটা পেলাম এটা সত্যিই একটি বিরাট ধাক্কা লে'গে গিয়েছিল। কারণ আমি ভাবতেই পারি নি আজকে এভাবেই মৃ’ত্যুবরণ করবেন তিনি। কারণ পার্লামেন্ট শুরু হবে তিনি আসবেন এবং দ্রুত সু'স্থ হতে হবে- এটা তিনি সবসময় চিন্তা ক'রতেন। মঈন উদ্দীন খান বাদল কথা বলতেন এলাকার উন্নয়নের জন্য। সব সময় তিনি সক্রিয় ছিলেন। তার মৃ’ত্যুতে তার এলাকাবাসীর ক্ষ'তি হয়েছে। তার আত্মা'র মাগফেরাত কামনা করে প্রধানমন্ত্রী শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবে'দনা জানিয়ে বলেন, তার লা'শ নিয়ে আসার জন্য ইতিমধ্যে ব্যব'স্থা নেওয়া হয়েছে। আমাদের হাইকমিশনার থেকে একজন ক'র্মকর্তা সেখানে পাঠিয়েছি।

শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় আরো অংশ নেন, বিরোধী দলের নেতা বেগম রওশন এরশাদ, আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আমীর হোসেন হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সাবেক স্বা'স্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক মন্ত্রী ড. মহীউদ্দিন খান আলমগীর, সাবেক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, সাবেক প্রধান হুইপ আসম ফিরোজ, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙা। পরে স্পীকার সংসদে শোক প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণের প্রস্তাব দিলে তা গৃহীত হয়। পরে প্রয়াতদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নিরাবতা পা'লন শেষে মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন সরকারি দলের সংসদ সদস্য বি এইচ হারুন। চলমান সংসদের কোন সদস্যের মৃ’ত্যু হলে রেওয়াজ অনুযায়ী স্পিকার অধিবেশনের অবশিষ্ট কার্যক্রম স্থগিত রেখে সংসদ অধিবেশন আগামী সোমবার বিকেল সোয়া চারটা পর্যন্ত মুলতবি ঘো'ষণা করেন।