১৯৯৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার আকাশ থেকে অ'স্ত্র বৃষ্টি বেশ আলোড়ন ফে'লেছিল দেশটিতে। হ'ঠাৎ আকাশ থেকে নিচে ডজনে ডজনে আগ্নেয়াস্ত্র পড়ায় মানুষের মনে তৈরি হয়েছিল আতঙ্ক। তবে বুধবার কলকাতায় যা হলো, তাতে সাধারণ মানুষের দু'শ্চিন্তা তো দূর বরং অনেকেই পকেট ভারী করে বাড়ি ফিরলেন।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, বুধবার ভরদুপুরে ব্যস্ত রাস্তার ধারে বহুতল একটি ভবনের ওপর থেকে নিচে পড়ছে কাড়ি কাড়ি টাকার বান্ডিল। এমন দৃশ্য দেখে পথচলতি মানুষের মাঝে হুলস্থুল পড়ে গেল মধ্য কলকাতার বেন্টিঙ্ক স্ট্রিট এলাকায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বুধবার দুপুর পৌনে ৩টার দিকে ২৭ বেন্টিঙ্ক স্ট্রিটে এম কে পয়েন্ট নামে একটি বহুতল ভবন থেকে আচমকাই টাকার বান্ডিল পড়তে শুরু করে। কয়েকজনের নজরে আসতেই এলাকায় ব্যা'পক চাঞ্চল্য ছ'ড়িয়ে প'ড়ে। ওই বহুতল ভবনটির নিচে অনেকেই জড়ো হন টাকা কুড়ানোর জন্য।

সাত তলার ওপরের একটি জানালা থেকে ওই টাকা ফেলতেও দেখা যায় একজনকে। নিচে থাকা নিরাপত্তারক্ষী ও অন্য কয়েকজন সেই টাকা কুড়িয়েছেন বলে আশপাশের দোকানদাররা জা'নিয়েছেন।

ভবনের উল্টোদিকের চায়ের দোকানদার রমেশ মাহাতো বলেন, ‘হ'ঠাৎ করে দেখি দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়ে গিয়েছে। তাকাতেই দেখি ওপর থেকে টাকা পড়ছে। বেশির ভাগ টাকাই বিল্ডিংয়ের পার্কিং এলাকায় পড়েছে। সেই টাকা নিরাপত্তারক্ষীরা কুড়িয়ে নিয়েছেন। রাস্তাতেও পড়েছে। অনেকে কুড়িয়ে নিয়েছেন। ওপরে এক ব্যক্তি যে জানালা দিয়ে টাকা ফেলছে, সেটাও দেখেছি আম'রা। ঘণ্টাখানেক পরে পুলিশ এসে কয়েকজনের কাছ থেকে অল্প কিছু টাকা উ'দ্ধার করেছে।’

ওই ভবন লাগোয়া ফল বিক্রেতা ত্রিবেণী পাণ্ডে। তিনি বলেন, ‘হ'ঠাৎ দেখি, আমা'র দোকান থেকে কিছুটা দূরে একটা ৫০০ টাকার নোট পড়ল। একটা ছেলে কুড়িয়ে নিল। ওপরের দিকে তাকাতেই দেখি, আমা'র দোকানের পাশেই একটা গাছে ৫০০ টাকার নোটের একটা বান্ডিল আ'টকে রয়েছে। সেটা থেকেই খু'লে খু'লে পড়ছিল। তবে কার টাকা, কোথা থেকে এল, সে সব বলতে পারব না।’

কিন্তু কেন টাকা ফেলা হচ্ছিল? কারাই বা ফেললেন টাকা? খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছায় হেয়ার স্ট্রিট থা'নার পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তের পর তারা জানতে পেরেছে, ওই বহুতল ভবনটিতে দেশটির কে'ন্দ্রীয় শুল্ক দফতরের (ডিআরআই) গোয়েন্দারা হানা দিয়েছিলেন।

সাত তলার ৬০১ নম্বর ঘরে হক মা'র্কেন্টাইল নামে একটি সংস্থার অফিস রয়েছে। সেই অফিসে কে'ন্দ্রীয় শুল্ক দফতরের গোয়েন্দারা হানা দিলে শৌচাগারের জানালা থেকে কে বা কারা টাকার বান্ডিল ফে'লে দিয়েছেন। বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে এখনও পর্যন্ত পুলিশ ৩ লাখ ৭৪ হাজার টাকা উ'দ্ধার ক'রতে পেরেছে। আনন্দবাজার।