আমি কি এটার জবাব দিতে পারবো? ‘আইএস টুপি’ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী

হলি আর্টিজান হা’মলা মা’মলায় মৃ’ত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আ’সামি রাকিবুল হাসান রিগ্যান ‘আইএস টুপি’ পরে আদালতে হাজির হয়েছিলেন। পুলিশি হেফাজতে থাকার পর তিনি কীভাবে এ টুপি পেলেন তা নিয়েই চলছে নানা সমালোচনা।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের কাছে। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি কি এটার জবাব দিতে পারবো? তবে এটা কীভাবে এলো সেটা অবশ্যই তদন্ত করা হবে।’

বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। হলি আর্টিজান মামলার রায়ের প্রতিক্রিয়া জানাতে নিজের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন আইনমন্ত্রী। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির মাথায় আইএসের টুপি বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বি’ব্রত হন আইনমন্ত্রী।

এসময় কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি কী এটার জবাব দিতে পারব? এটা কী করে হলো, সেটা নিশ্চয়ই তদন্ত করা হবে। কী করে আসল, এটা তো আমি আজকে এখানে জবাব দিতে পারব না। আমার পক্ষে এটার জবাব দেয়া সম্ভব নয়। কিন্তু নিশ্চয়ই ব্যাপারটি তদন্ত হওয়া উচিত।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমি আপনাদের বলছি, ব্যাপারটি তদন্তের জন্য প্রেস কনফারেন্স শেষ করে আমি কথা বলব।’

হলি আর্টিজানের ওই হা’মলায় নি’হতদের আ’ত্মার মাগফিরাত কামনা করে আইনমন্ত্রী বলেন, সেখানে ইতালিয়ান, জাপানি নাগরিক ছিলেন। আমাদের বাংলাদেশের নাগরিক ও পুলিশের অফিসার ছিলেন, যারা এই দু’র্ঘটনা যেন না ঘটে সেজন্য নিজেরা প্রাণ দিয়েছেন। মামলার ২১ আসামির মধ্যে হা’মলার দিন পাঁচজন অ’ভিযানে নি’হত হয়। এরপর আরও আটজন গ্রে’ফতার অ’ভিযানে ব’ন্দুকযুদ্ধে নি’হত হয়। বাকি আট আ’সামির মধ্যে সাতজনকে মৃ’ত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, আর একজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

‘আমরা সরকারের পক্ষ থেকে বলতে চাই, আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট। আমরা আরও বলতে চাই, এ রকম চাঞ্চল্যকর এবং যেসব মা’মলা দেশের শেকড়ে গিয়ে ধাক্কা দেয়, সেগুলো দ্রুত শেষ করতে পারছি, সেটাও মনে হয় সন্তুষ্টির কারণ।’

‘দু’র্ঘটনাটি যখন ঘটেছিল ১ জুলাই, সেসময়ই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, এসব অপরাধীদের দ্রুত বিচার করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। সে কথারই সত্যতা প্রমাণ হলো আজ। আমরা এ বিচার কার্যক্রম ও রায়ে সন্তুষ্ট।’

গত ডিসেম্বর থেকে এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ২১১ জন সাক্ষীকে অভিযোগপত্রে দেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে প্রয়োজনীয় ১১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে বিচারিক আদালত এই রায়ে উপনীত হয়েছেন।

একজন আসামি খালাস পাওয়ার বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, আমি এখনো রায়ের কপি পড়িনি। রায়ের কপি পড়ে তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।