রাজীব সাহেবের দুই ছেলেই বিয়ে করেছে,কিন্তু কুলসুম মেম বেচারী নিজের বলতে আজও কিছু নেই:দেবী গাফফা

অভিনেতা রাজীবের জীবনি সিনেমা'র থেকে কোন অংশে কম নয়।তার জীবনী থেকে জানা যায় তিনি কত বড় মাপের একজন মানুষ ছিলেন। কাছের মানুষের সুখ-দুঃখ থেকে শুরু করে সকল বিষয় খেয়াল রাখবেন তিনি। নিজের জীবনে সুখ দুঃখ মিশ্রণ ছিল। দেবী গফফার রাজীবের জীবনী লিখতে গিয়ে লিখেছেন অনেক কিছুই। এবার তিনি একজন রাজিব এর জীবনী ১৪ তম পর্ব লিখেছেন। পাঠকদের উদ্দেশ্যে তা তুলে ধ'রা হলো:-

অনেক কিছুই লেখার থাকে, লেখা হয়ে উঠে না। সব কথা সময়মত মনেও আসে না। রাজীব সাহেব এর ছোট বেলা, পাশের বাসার চাচার উঠান পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়। সেই চাচা বলতেন, কিগো মিয়া তুমি তো পড়াশোনা ক'রতে ক'রতে আমা'র উঠানের ঘাস মেরে ফেলবে। বড় হয়ে আমাকে চাকরি দিও, হাহা করে হাসতেন। ছোট্ট বুকে জ্বা'লা ধ'রা হাসি। উনি দেখিয়ে দিতেন, একটা বাচ্চাকে কত রকমের অপমান করা যায়। ঐ চাচার কাজ ছিলো সারারাত যাত্রা দেখা, দিনে উঠানে বসে হুক্কা টানা। এই ধ'রনের জীবনযাপনে এক সময় উনার জায়গা জমি সব বিক্রি করে নিঃস্ব হয়ে যান। রাজীব সাহেব তিতাসে থাকা কালে একদিন ঢাকা আসলেন। উনার সব অবস্থা শুনে বললেন, এখন কি করেন? চাচা বললেন, ’বাবা নদীতে মাছ ধ'রে খাই।’

রাজীব সাহেব তখনই তিতাস এ চাচার চাকরির ব্যব'স্থা করলেন। ওই চাকরির টাকায় চাচা বড় দোতলা বাড়ি করলেন, ছেলে মেয়ে বিয়ে দিয়ে সুখে শান্তিতে জীবন এর শেষ দিনগুলো পার করলেন। কেরামত চাচা একদিন ফোন করে বললেন উনার বাসায় যাওয়ার জন্য।
রাজীব সাহেব এর সময় না থাকায় চাচা আমাদের বাসায় আসলেন। সেই টেডী রাজীবের বাসায়। এর পর মাঝে মাঝেই আসতেন।
রাজনৈতিক ব্যাপারগুলো নিয়ে রাজীব সাহেব এর প'রামর্শ নিতেন। আসলেই বলতেন, বৌমা তোমা'র হাতের সেই কাঁচ কলা দিয়ে সিং মাছের ঝোল খাবো।

মা'রা যাওয়ার আগে ও বলতেন, ’বৌমা'র হাতের সিং মাছের ঝোল খাবো।’
সেই মামী যিনি পাকিস্তানি আর্মিদের হাত থেকে রাজিব সাহেবকে বাঁচিয়েছিলেন এক সময় অসু'স্থ হলে ঢাকায় আমা'র বাসায় আনি।
যথাসাধ্য মামীর চিকিৎসা করে সেবা যত্ন দিয়ে সু'স্থ করে বাড়ি পাঠিয়েছিলাম। মামীর নাতনীকেকে চাকরি ঠিক করে দিই, টঙ্গী চেরাগ আলি সরকার সাহেব এর হাই স্কুল এ। লালমাটিয়া থাকতে আজম আসলো অসু'স্থ হয়ে, বউ বাচ্চাসহ পাঁচজন। পিজিতে ভর্তি করালাম।

ব্লাড ক্যানসার ধ'রা পড়লো।আমা'র হাতের খাবার ছাড়া খেতেন না। সকালে বাজার করে রান্না করে বাচ্চাদের বাসায় রেখে প্রতিদিন পিজিতে খাবার নিয়ে যেতাম। যথাসাধ্য উনার সেবা যত্ন করেও উনাকে বাঁচাতে পারিনি। আমা'র হাতেই মা'রা গেলেন। সমস্ত খরচ দিয়ে দেশে পাঠিয়ে দিই। আজমের সেই বোনের ছেলেকে ঢাকা এনে সরকারি চাকরি দেওয়া হয়। তাদের সেই রমরমা অবস্থা না থাকায় আজমের বোন, বোন জামাই ঢাকা আসে। অনুরোধ করে ছেলের চাকরির জন্য। এখন ছেলে ভালো ইনকাম করে। ভালো আছে।

কুলসুম মেম মোটামুটি ভালো আছে। রাজীব সাহেব এর দুই ছেলেই বিয়ে করেছে, বউ বাচ্চা নিয়ে ভালো আছে। কিন্তু কুলসুম মেম বেচারী, তার নিজের বলতে তখনও কিছু ছিলো না আজও নেই। ছেলেরা ঠেলাঠেলি করে দুইদিন এই ছেলের বাসায় ঠাই হলে আবার আর এক ছেলের বাসায় যেতে হয়। মেয়েদের আসলে নিজের বলতে কিছু নেই।

উনি ভালো নেই। আমি সব শুনি। কুলসুম মেমকে খবর পাঠিয়েছিলাম, ওখানে উনার অস'ম্মান হলে উনি যেনো আমা'র কাছে চলে আসেন। কথা দিয়েছি সম্মানের উঁচু জায়গাটা উনার জন্য থাকবে। উনি আসেননি। এই সমাজের নিয়ম ভে'ঙে হয়তো উনি আসতে পারবেন না। তেমনি মা হালিমাকেও বলেছি, কষ্ট হলে যেনো আমা'র কাছে চলে আসেন।

আমা'র এই লেখা নিশ্চয়ই মাসুদ মামুনও পড়ছে। অনুরোধ থাকবে ওরা যেনো ওদের মা’কে ভালো রাখে। নতুবা প্রকৃতি কাউকে ক্ষ'মা করবে না। পরিশেষে বলবো, অমি সাহেব এর সুনজর না থাকলে আমা'র এই লেখা এত বর্ণনা কোন কিছুই সম্ভব হতো না। অমি সাহেব এর কাছে বরাবরই কৃতজ্ঞ। নিখাদ ভালো মানুষ। ভালো থাকুক সাহেব। আবার কখনো নতুন কোন লেখা নিয়ে আপনাদের দরবারে হাজির হবো। আপনাদের ভালোবাসায় আমি, আমা'র পরিবার মুগ্ধ।

উল্লেখ্য, নায়ক থেকে শুরু করার রাজিব এর জীবন শেষ পর্যন্ত খলনায়ক হিসেবে থামে। বাংলাদেশের তারছেড়া আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা। বিনোদন জগতের তাকে সবাই সম্মান শ্রদ্ধা ক'রতেন। দেবি গফফারের লেখনীর মাধ্যমে তার জীবনে অনেক অজানা গল্প জানতে পেরেছে মানুষ। তবে আজকের লেখনির পর লেখিকার লেখায় বোঝা যাচ্ছে তিনি এখানেই রাজীবের জীবনির লেখার শেষে টেনেছেন।