গাম্বিয়ার আইনজীবীরা সু চিকে অপমান করলেন

১৯৯১ সালের ১০ ডিসেম্বর নরওয়ের অসলোতে নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের সময় মিয়ানমা'রের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি ছিলেন মিয়ানমা'রে গৃহবন্দি। ২৯ বছর পর ঠিক ওই তারিখে কার্যত আইসিজের কাঠগড়ায় ছিলেন সুচি। আইসিজের আদালতকক্ষে বাদী ও বিবাদী—দুই পক্ষের মাঝখানে দাঁড়িয়ে যুক্তিত'র্ক উপস্থাপন ক'রতে হয়। মিয়ানমা'রের পক্ষে এজেন্ট হিসেবে সু চি গতকাল আইসিজের আদালতকক্ষে যে চেয়ারটিতে বসে ছিলেন এর পাশে দাঁড়িয়েই গাম্বিয়ার আ'ইনজীবীদল এক এক করে রোহিঙ্গাদের হ’ত্যা, নি’র্যাতন-নি’পীড়নের বর্ণনা দিয়েছে।

জেনোসাইডের মতো অত্যন্ত গু'রুতর অ'ভিযোগে মা'মলা। তবু বিচারের জন্য নেপিডো ছাড়ার সময় হাস্যোজ্জ্বল ছবি তুলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছিলেন মিয়ানমা'রের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি। তিন দিন পর গতকাল মঙ্গলবার হেগে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে (ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিজ, সংক্ষেপে আইসিজে) মা'মলার শুনানির সময় সেই হাসির লেশমাত্র দেখা মিলল না সু চির মুখে, বরং শুনানির পুরোটা সময়েই ছিলেন ভাবলেশহীন। নির্লিপ্ত দৃষ্টি ছিল তাঁর। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতে পাথরের মূর্তির মতো বসে ছিলেন সু চি। সেখানে তাকে তুলাধোনা করেছেন গাম্বিয়ার আ'ইনজীবীরা।

আ'ইনজীবীদল তথ্য-প্রমাণসহ বলেছে, এই সেই মিয়ানমা'রের স্টেট কাউন্সেলর ও বিবাদীদলের এজেন্ট, যাঁর দপ্তরের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে রোহিঙ্গা অ'ভিযোগকে মিথ্যা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তাঁর দপ্তর ‘ফেক রে’প’ (ভু’য়া ) নামে একটি ফেসবুক পেজ খু'লেছিল। এই সেই এজেন্ট, যিনি সব সময় বলেছেন যে কোনো অন্যায় হয়নি।

মানবাধিকার সংগঠন ফোরটিফাই রাইটসের সহপ্রতিষ্ঠাতা ম্যাথু স্মিথ টুইট বার্তায় সু চির একটি ছবি প্র'কাশ করেছেন, ‘গাম্বিয়ার আ'ইনজীবীদলের মুখে রোহিঙ্গাদের ব্যা'পক হারে হ’ত্যাযজ্ঞ, ধারাবাহিকভাবে ও জেনোসাইডের অন্যান্য অপরাধ সংঘটিত হওয়ার বর্ণনা আইসিজেতে বসে অং সান সু চি শুনছেন। এ দৃশ্য দেখা অবশ্যই অসাধারণ।’

নেদারল্যান্ডসের ম্যাস্ট্রিচ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও যুক্তরাজ্যের শী'র্ষস্থানীয় নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাটাম হাউসের আন্তর্জাতিক আ'ইন বিষয়ক অ্যাসোসিয়েট ফেলো উইম মুলার টুইট বার্তায় লিখেছেন, ‘গাম্বিয়ার আ'ইনজীবীরা সরাসরি সু চিকে লক্ষ্য করে কথা বলতে লজ্জা পাননি। গাম্বিয়ার আ'ইনজীবীদলের সদস্য ফিলিপ স্যান্ডস শুনানিতে সু চির একসময়ে বক্তব্য তুলে ধ'রেছেন, যেখানে সু চি বলেছিলেন—প্রত্যেক মানুষ সম্মান ও গু'রুত্ব পাওয়ার প্রত্যাশা রাখে।’

মিয়ানমা'রের সরকারপ্রধান সু চি ও তাঁর আ'ইনজীবীদল গতকাল হেগের আদালতে আসে গাড়িবহর নিয়ে। গাড়ির সামনে দুটি মোটরসাইকেলে ছিল দুজন পুলিশ। নেদারল্যান্ডস ও কানাডা গত সোমবার রাতে এক যৌথ বিবৃতিতে আইসিজেতে মিয়ানমা'রকে জবাবদিহির মু'খোমুখি ক'রতে গাম্বিয়ার উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। গতকাল শুনানির পর আদালতের আশপাশে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ, কানাডা, গাম্বিয়া ও নেদারল্যান্ডসের পক্ষে স্লোগান দিয়েছে।