বন্ধ হচ্ছে সব কেজি স্কুল

শুরুরও যেমন একটা শুরু থাকে, প্রাথমিকের আগে প্রাক্‌-প্রাথমিক শিক্ষা যেন ঠিক তেমনটাই। ভারতের একটা বড় অংশে প্রথম শ্রেণির আগে থেকেই বাচ্চাদের ‘পড়াশোনা’র সূচনা হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু শিক্ষা শুরুর এই শুরুটাই বন্ধ করে দিচ্ছে ভারতের হরিয়ানা সরকার। সম্প্রতি তারা ঘোষণা করেছে, প্রাক্‌-প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা বন্ধ। অর্থাত্ বন্ধ করে দেওয়া হবে সমস্ত বেসরকারি নার্সারি বা কিন্ডারগার্টেন (কেজি) স্কুল।

সরকারের মতে, প্রাক্‌-প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় আসলে শিশুদের শৈশব চুরি হয়ে যাচ্ছে। ভীষণ ক্ষতি হচ্ছে শিশুদের। ঠিক করা হয়েছে, বাচ্চারা ভর্তি হবে সরাসরি প্রথম শ্রেণিতে। তবে, খেলাধুলোর মাধ্যমে কিছু শেখার জন্য অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বা প্লে স্কুল রাখা যেতে পারে।

এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অনেকেই। কোনও কোনও মহলে আবার তা তুমুল সমালোচনার মুখেও পড়েছে। শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার কার্যত সমর্থনই করেছেন হরিয়ানা সরকারের সিদ্ধান্তকে। তার বক্তব্য, ছোটদের সাধারণ ভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ দেওয়া উচিত।

ছোট থেকেই লেখাপড়ার চাপের মধ্যে না দিয়ে স্বাধীন ভাবে বিকশিত হওয়ার একটা সময় দরকার হয়। যে সময়টা তারা লেখাপড়ার কথা ভাববেই না। তবে সে ক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। এমন বন্দোবস্ত করতে হবে যাতে, প্রাথমিক স্কুলগুলিতেই খেলাধুলো এবং লেখাপড়ার মধ্যে সমন্বয় সাধন হতে পারে।

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের সময়ে তো পাঁচ বছর বয়স হওয়ার আগে হাতেখড়িই দেওয়া হত না। কিন্তু এখনকার অভিভাবকদের মত যেন, মায়ের পেটে থেকেই শিক্ষাগ্রহণ শুরু করুক শিশুরা। আমি মনে করি, আগেকার শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে কোনও ভুল ছিল না।