প্রেমিকার জন্য কাদিরের ভালোবাসার নিদর্শন ‘নকশী কাঁথার মাঠ’

সম্রাট শাহজাহান তাঁর স্ত্রী মমতাজের প্রতি ভালোবাসার নিদর্শনস্বরূপ নি'র্মাণ করেছিলেন তাজমহল। যুগে যুগে এমন ভালোবাসার সাক্ষী হয়েছে অনেক মানুষ, অনেক স্থাপনা। এবার ভালোবাসার নিদর্শন স্বরূপ ৩৫ শতক জমিতে শৈল্পিক বুননে ফুটিয়ে তুলেছেন সৃষ্টিশীল মনের অধিকারী কৃষক আব্দুল কাদির। দৃষ্টিনন্দন ফসলের এই মাঠ দেখতে প্রতিদিন শত শত মানুষ কাদিরের ক্ষেত দেখতে ভিড় করেন। কাদিরের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজে'লার আঠারবাড়ি ইউনিয়নের পাড়াখলাবলা গ্রামে। কাদিরের বাবা হাজী তারা মিয়া।

কাদির জা'নান, গ্রামে একটি ‘ব'ন্ধুমহল’ ডিজিটাল ক্লাব আছে। তিনি সেই ক্লাবের উপদেষ্টা সদস্য। একদিন ক্লাবের সদস্যরা তার কাছে ডিজিটাল পদ্ধতির কিছু করে দেখানোর জন্য আবদার করে। ক্লাবের সদস্যদের দা'বির পরিপ্রেক্ষিতে চিন্তা ক'রতে লাগলেন কী করা যায়! হ'ঠাৎ তার মাথায় আসে স্থানীয় কৃষি বিভাগ থেকে পাওয়া রবি শস্য সরিষার প্রদর্শনী প্লটে চিত্রকলার আলোকে বীজ বপন করে কিছু নতুনত্ব সৃষ্টি করা যায় কি না। পরিকল্পনা অনুযায়ী ক্লাবের সদস্যদের সহায়তায় ৩৫ শতক জমিতে হাল চাষ করে জমির বুকে চিত্রাংকন করেন। তারপর চিত্ররেখার মাঝে বারী-১৫ জাতের সরিষা বীজ বপন করেন।

বীজ গজানোর পর পুরো ক্ষেতের চিত্র পাল্টে যায়। যেন জীবন্ত ছবির রূপে ধ'রা দেয় ক্ষেত। ‘ব'ন্ধুমহল’ ক্লাবের সদস্যরা ক্ষেতের নাম দিয়েছেন ‘নকশী কাঁথার মাঠ’। ফসলের এই কারুকার্যময় চিত্ররূপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছ'ড়িয়ে পড়ার পর তা দেখার জন্য প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার শত শত মানুষ ক্ষেতের পাশে ভিড় করছেন।

ক্ষেত ঘুরে দেখা যায় দুপাশে রয়েছে দুটি নৌকা, জাতীয় ফুল শাপলা, চার কোণে ভালোবাসার প্রতিক হিসেবে চারটি লাভ চিহ্ন এবং ক্ষেতের মধ্যখানে একটি বড় লাভ চিহ্ন। যার ভিতরে রয়েছে কৃষক আব্দুল কাদিরের নাম। চার কোণে ও মধ্য ভাগে লাভ চিহ্ন আঁকার বিষয়ে কাদির জা'নান, ‘এর পেছনে একটি মজার গল্প রয়েছে। গল্পটি হলো কিশোর বয়সে উপজে'লার সোহাগী গ্রামের এক কিশোরীর প্রেমে প'ড়েছিলাম। তখন সেই প্রেমের সেতু ব'ন্ধন রচিত হয়েছিল চিঠির মাধ্যমে।

কাদির বলেন, প্রেমিকা আমাকে যখন চিঠি লিখতো তখন চিঠির চার কোণে চারটি এবং মাঝখানে একটি বড় লাভ চিহ্ন এঁকে দিতো। লাভ চিহ্নের ভেতরে লেখা থাকতো প্রেমিকার ও আমা'র নাম। কিশোর বয়সের সেই লাভ চিহ্নকে ফসলের জমিতে ফুঁটিয়ে তুলে ভালোবাসার প্রতি সম্মান দেখালাম। আমা'র সেই প্রেমিকার নাম মকসুদা বেগম। ভালোবেসে তাকে বিয়ে করে সুখে সংসার করছি। আমাদের সংসারে এক মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। মাকসুদা আমা'র কাছে মমতাজের মত।

সম্রাট শাহজাহান তার স্ত্রীর ভালোবাসার নিদর্শন স্বরূপ পৃথিবী বিখ্যাত সুরম্য তাজমহল তৈরী করেছিলেন। কাদির আরও বলেন- আমি গরীব, আমা'র সামর্থ্য নেই, কিন্তু আমা'র স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার কমতি নেই। তাই তাজমহল বানাতে না পারলেও জমিতে সেই লাভ চিহ্নের নকশা এঁকে প্রেমের নিদর্শন হিসেবে প্রেয়সীকে লেখা চিঠির মতোই নিজের জমিতে প্রেমপত্র এঁকেছি।’ ভিন্নধ'র্মী এমন কাজের ব্যাপারে ঈশ্বরগঞ্জ উপজে'লা কৃষি ক'র্মকর্তা সাধন কুমা'র গুহ মজুমদার বলেন, কৃষক আবদুল কাদির মানসিক ভাবনার সফল বাস্তবায়ন ঘটিয়েছেন নিজের ফসলের মাঠে। তার ব্যতিক্রমী উদ্যোগটি প্রশংসনীয়।’